1. multicare.net@gmail.com : news : chouddagram online
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

সব কাজেই লাগছে এনআইডি!

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীর কিরণ : মোবাইলের সিম কার্ড তুলতে গেলে দোকানদারের প্রথম বাক্যটাই হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এনেছেন? ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাতো বটেই, ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে গেলেই লাগবে এনআইডি। ডিজিটাল এই পরিচয়পত্র এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে যে, এটি ছাড়া এখন আর চলেই না।
বিশেষ করে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, পাসপোর্ট করাতে, দূরপাল্লার গণপরিবহনের টিকিট পেতে, অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক বিমানে চড়তে এমনকি বাসা ভাড়া নিতে গেলেও এখন এনআইডি লাগে। এনআইডি ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প নেই। সব কাজেই প্রয়োজন এখন এনআইডি।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এবং বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত একজন মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠেছে জাতীয় পরিচয়পত্র। ক্ষেত্রবিশেষে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-স্বজন এড়িয়ে চলা গেলেও এনআইডিকে সহচর না করে কেউই চলতে পারবেন না। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপেই এটির প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান।
তারা জানান, জীবদ্দশায় নিজের প্রয়োজনে তো লাগবেই মৃত্যুর পর ওয়ারিশানদের সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও এটির প্রয়োজন পড়বে। যেকারণে এটি মানুষের জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের দায়িত্বশীলরা যুক্তি হিসাবে তুলে ধরছেন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সহজে তথ্য পাওয়ার বিষয়কে।
তারা বলেন, অনেক সময় সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতরা নাম-পরিচয়, জন্ম তারিখ পাল্টিয়ে ফেলে। কিন্তু জন্মের প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রের কাছে কোনো নাগরিকের তথ্য থাকলে তা পাল্টানোর সুযোগ কমে যাবে। জন্ম থেকেই নাগরিকের তথ্য যখন থাকবে, তখন অপরাধ দমনে সেই তথ্য সহায়ক হবে। এজন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুকে ইউনিক নম্বর দেয়ার মাধ্যমে জন্মের প্রথম দিন থেকেই একজন নাগরিকের তথ্য রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটার শনাক্তের পাশাপাশি নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও অপরাধ দমনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করতে ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন করে সরকার। ওই আইনে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে পরিচয়পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
এছাড়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অনুসারেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। আর এ কাজ সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে এটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এনআইডিতে আরো উন্নত করে ২৫টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের স্মার্ট কার্ড করা হয়।
যা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএন, পাসপোর্ট, চাকরির আবেদন, স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা, বিয়ে রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ব্যাংক ঋণ, শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন উত্তোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিমানবন্দরে ?আগমন ও বহির্গমন, বিমা স্কিম, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের ই-টিকিটিং, মোবাইল সংযোগ, হেল্থকার্ড, ই-ক্যাশসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজ করা যাবে।
তবে প্রচলিত এসব কাজের বাইরেও আরো অনেক কাজে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে বলে জানান এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক। ভবিষ্যতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা রেখে এই কার্ড তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ই-গেটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। সেখানে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের পাশাপাশি শিশুসহ দেশের সকল নাগরিককে কার্ডের আওতায় নিয়ে আসতে ‘এক ব্যক্তি-একটি আইডি’ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিককে একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করতে ১০ ডিজিটের ইউনিক নম্বর সম্বলিত আইডি করা হচ্ছে। শিশুর জন্মগ্রহণের পর থেকে স্কুলে ভর্তি, পড়াশোনা, বিদেশ ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হবে এই একটি মাত্র আইডি।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এমনকি যেকোনো ধরনের সেবা পাওয়ার জন্যও প্রয়োজন হবে অভিন্ন এই নম্বর। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সাল। কিন্তু করোনা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি দুটি অংশে বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) ও বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের পর এর আওতায় পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে। সেটি ১৮ বছর বয়সের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে রূপান্তরিত হবে।
প্রকল্প কাজ শুরুর সাথে জড়িত সদ্যসাবেক এনআইডি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, একজন নাগরিককে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ভোটার নম্বর, আয়কর টিন নম্বর, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর-এ ধরনের অনেক নম্বরই এখন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হলে সব ক্ষেত্রে এই একটি নম্বর ব্যবহার করে সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, জন্ম নিবন্ধন অধিদফতরই সারাদেশে এই আবেদন গ্রহণ করবে। এই অধিদফতরের সার্ভারের সাথে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সার্ভার যুক্ত করে দেয়া হবে। জন্ম নিবন্ধন অধিদফতর শিশু তথ্যগুলো আমাদের সার্ভারে পাঠাবে। এর ভিত্তিতে আমাদের সার্ভার জেনারেটর একটা নম্বর প্রস্তুত করে তা পাঠাবে। এটিই হবে ইউনিক নম্বর।
নম্বরটি মানুষ তৈরি করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সার্ভার জেনারেটর এলগরিদমের মাধ্যমে নম্বরটি তৈরি করে দেবে। শিশুর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করে সার্ভার জেনারেটর ইউনিক নম্বরটি তৈরি করবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জানান, ডিপিই, ব্যানবেইস এবং নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখা মিলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডিপিই প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু ও শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এন্ট্রি করছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলোকে এন্ট্রি করছে ব্যানবেইস। এছাড়া জন্মগ্রহণের পর সব শিশুর জন্ম নিবন্ধনে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রে দেয়া তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখা। তিনটি সংস্থার সম্মিলিত কাজের মাধ্যমেই এই ইউনিক আইডি প্রস্তুতের কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক (ডিজি) হাবিবুর রহমান জানান, ইউনিক আইডি প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। ব্যানবেইসের এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আইইআইএমএস) আওতায় কাজটি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, একটি সফটওয়্যারের মধ্যেই দেশের সব নাগরিকের সকল তথ্য থাকবে। ফলে যেকোনো কাজই এর মাধ্যমে সহজে সম্পন্ন করা যাবে। সূত্র; দৈনিক মানবকণ্ঠ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

সর্বশেষ খবর

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট